• হোম > মতামত > জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিতে ইলিশ: বাংলাদেশের নদী, মোহনা ও মৎস্যসম্পদ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকিতে ইলিশ: বাংলাদেশের নদী, মোহনা ও মৎস্যসম্পদ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

  • শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১:৩৩
  • ১০০

---

সুমনা শারমিন স্বর্ণা

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ শুধু একটি জনপ্রিয় খাদ্য নয়, বরং দেশের অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং কোটি মানুষের জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ, নাব্যতা সংকট, অতিরিক্ত মাছ আহরণ এবং মিঠা পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই মৎস্যসম্পদ এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলিশের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে বাংলাদেশের নদী, মোহনা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ কতটা সুস্থ রাখা যায় তার ওপর।

গবেষণা বলছে, ইলিশ কোনো নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে না। পানির তাপমাত্রা, লবণাক্ততা, অক্সিজেনের মাত্রা, নদীর গভীরতা, বৃষ্টিপাত এবং জোয়ার-ভাটার মতো পরিবেশগত সংকেতের ওপর ভিত্তি করেই এই মাছ তার অভিবাসন, প্রজনন ও চলাচলের সময় নির্ধারণ করে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব প্রাকৃতিক উপাদানের পরিবর্তন হলে ইলিশের জীবনচক্রও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট মাছ উৎপাদনের একটি বড় অংশ আসে ইলিশ থেকে। প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এই মাছকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন কমার প্রবণতা বিশেষজ্ঞদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। একই সঙ্গে নদীভিত্তিক ইলিশ উৎপাদন কমে গিয়ে সাগর ও মোহনাকেন্দ্রিক উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী দখল, দূষণ, পলি জমে নাব্যতা হ্রাস, অবৈধ জাল ব্যবহার এবং জাটকা নিধনের মতো মানবসৃষ্ট সমস্যাগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও তীব্র করে তুলছে। ফলে ইলিশের স্বাভাবিক অভিবাসন পথ ও প্রজনন ক্ষেত্র ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। মেঘনা, তেঁতুলিয়া এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোহনা এলাকায় মিঠা পানির প্রবাহ কমে গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গবেষকরা মনে করেন, শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ করলেই হবে না। ইলিশ সংরক্ষণে নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদীর নাব্যতা রক্ষা, মিঠা পানির প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু অভিযোজনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ইলিশ সম্পদ এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা না করা গেলে ভবিষ্যতে এই সাফল্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় এখনই দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সূত্র- The Business Standard Bangla


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11082 ,   Print Date & Time: Tuesday, 29 September 2026, 07:51:08 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh