• হোম > বাংলাদেশ > বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

  • শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ২১:২৪
  • ৭৩

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক আরও গভীর হবে, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক পর্যায়ে উন্নীত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে তুরস্ক। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, দুই দেশ বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, মানবিক সহায়তা, সংস্কৃতি, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করবে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে হাকান ফিদান বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং মানবিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার জন্য উভয় দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। ফিদানের মতে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ড. খলিলুর রহমান তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণের মাধ্যমে এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করবেন।

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। উভয় দেশ এই বাণিজ্যকে দ্রুত ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপারে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ছিল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর। এর মাধ্যমে দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং ঐতিহ্য রক্ষার যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।

হাকান ফিদান বাংলাদেশকে “গ্লোবাল সাউথের শক্তিশালী কণ্ঠস্বর” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ যে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করছে, তা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে প্রশংসিত হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তুরস্ক ভবিষ্যতেও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক ফোরামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11080 ,   Print Date & Time: Tuesday, 29 September 2026, 06:59:04 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh