![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
বাংলাদেশে তুরস্কের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (Special Economic Zone) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারণ করে বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি, বৃহৎ ভোক্তা বাজার, উন্নত অবকাঠামো এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। এ কারণে তুরস্কের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পপার্কে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্ক যদি বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ আসতে পারে। এতে দেশের শিল্পায়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ তুরস্ককে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি বৃত্তি প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি নাগরিক তুরস্কে অবস্থান করছেন, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। ছাত্র বিনিময় কর্মসূচি এবং শিক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ তুরস্কের মানবিক ও কূটনৈতিক সহায়তার প্রশংসা করে এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ-তুরস্ক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন এই অধ্যায় দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে এবং উভয় দেশের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব বয়ে আনবে।