![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ঈদুল আজহার ছুটি শেষ হলেও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো যমুনা বহুমুখী সেতুতে যানবাহনের চাপ কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং ঈদ-পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের যাত্রা অব্যাহত থাকায় সেতুটিতে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৪৩ হাজার ৯০৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা ঈদ-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ১৯ হাজার ৫৩৮টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২৪ হাজার ৩৭১টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার ৫০ টাকা।
দুই প্রান্ত মিলিয়ে মোট ৪৩ হাজার ৯০৯টি যানবাহন সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫০ টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদ-পরবর্তী সময়ে এত বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল এবং টোল আদায়ের ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য রেকর্ড।
ঈদের ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কর্মরত মানুষ উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে কর্মস্থলে ফিরছেন। একই সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রাক, বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির চলাচলও বেড়েছে। ফলে যমুনা সেতুতে যানবাহনের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানিয়েছেন, সেতুর উভয় প্রান্তে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যানজট এড়াতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন, টোল প্লাজায় বিশেষ নজরদারি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ, শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের দ্রুত কর্মস্থলে ফেরা এবং আন্তঃজেলা যোগাযোগের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে যমুনা সেতুর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ঈদ-পরবর্তী সময়ে এই বিপুল যান চলাচল দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় সচল হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিতও বহন করে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনও যানবাহনের চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে সেতুর উভয় প্রান্তে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার রাখা হয়েছে।