• হোম > অর্থনীতি > বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, স্বল্প সুদে ঋণ দেবে সরকার

বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল, স্বল্প সুদে ঋণ দেবে সরকার

  • শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬, ১২:৩২
  • ৬১

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের শিল্প ও সেবা খাতে নতুন গতি ফেরাতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনরুজ্জীবন তহবিল চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কিংবা আর্থিক সংকটে ধুঁকতে থাকা কারখানা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব তফসিলি ব্যাংক নির্ধারিত চুক্তির মাধ্যমে এই স্কিমে অংশ নিতে পারবে। শিল্পখাতের কার্যক্রম পুনরায় সচল করা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়ক রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ চালু করা হয়েছে।

এই স্কিমের আওতায় পাওয়া অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধ, কাঁচামাল সংগ্রহ, উৎপাদন ব্যয় নির্বাহ এবং রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়নের কাজে ব্যবহার করা যাবে। তবে পুরোনো ঋণ সমন্বয় বা খেলাপি ঋণ পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, শ্রমিকদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে অর্থ প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত শ্রমিকদের কাছে অর্থ পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

তদারকির ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঋণ বিতরণের পর ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত কারখানা পরিদর্শন, সাপ্তাহিক অগ্রগতি প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং ত্রৈমাসিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে হবে। ঋণের অপব্যবহার, ভুয়া তথ্য প্রদান অথবা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের শিল্প খাত বর্তমানে কার্যকর মূলধনের সংকট, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রপ্তানি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই প্রেক্ষাপটে স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা উদ্যোক্তাদের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল, চামড়া, প্রকৌশল এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণের সুযোগ পাবে।

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এই স্কিম বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় সচল হওয়ার পাশাপাশি হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকাও নতুন করে সুরক্ষা পাবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11064 ,   Print Date & Time: Monday, 28 September 2026, 11:43:18 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh