![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকির কারণে কৃষি, পরিবেশ, অর্থনীতি এবং জনজীবন এখন বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তাই টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কৃষিকে আধুনিক, জলবায়ু-সহিষ্ণু এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভিত্তিতে পুনর্গঠন করা সময়ের দাবি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জলবায়ু সংকট শুধু কোনো একটি দেশের সমস্যা নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, তীব্র দাবদাহ, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ ও অর্থনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে। এর ফলে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং মানুষের জীবনযাত্রা নতুন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান অত্যন্ত কম হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা বৃদ্ধি দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু কৌশল অনুসরণ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে, যা পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং বন্যা ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণ, জলাধার পুনরুদ্ধার এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।