• হোম > অর্থনীতি > ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তহবিল চাইল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বাড়ছে ভর্তুকির চাপ, ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত তহবিল চাইল বিভিন্ন মন্ত্রণালয়

  • বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০:২৪
  • ৬৯

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, এলএনজি, সার এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, কৃষি ও খাদ্য খাত থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চাহিদা অর্থ বিভাগে জমা পড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি সরকারের জন্য নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেই সবচেয়ে বেশি ভর্তুকি প্রয়োজন হচ্ছে। প্রস্তাবিত ভর্তুকির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এসেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।

বিদ্যুৎ বিভাগ আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৫৯ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার ভর্তুকি দাবি করেছে। বিভাগটির মতে, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে এই বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে পেট্রোবাংলা শুধুমাত্র আগামী অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের জন্যই ২৭ হাজার কোটি টাকার গ্যাস ভর্তুকি চেয়েছে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির আলোকে ভর্তুকির চাহিদা বাড়লেও সরকার এখনো চূড়ান্ত বরাদ্দ নির্ধারণ করেনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, জ্বালানির মূল্য এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নয়ন-অবনতির ওপর ভর্তুকির প্রকৃত প্রয়োজন নির্ভর করবে।

এদিকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সম্প্রতি খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। সরকারের ধারণা, বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের ফলে আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎখাতে ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমে আসতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য উচ্চ অবস্থানে থাকলে সেই সুবিধা অনেকাংশেই কমে যেতে পারে।

কৃষি ও খাদ্য খাতেও বাড়তি ভর্তুকির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সার, বীজ ও সেচ সহায়তার জন্য ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য ১২ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি চেয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক সংকটের কারণে ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, অপচয় রোধ এবং সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রতিবছর ভর্তুকির পরিমাণ বাড়তে থাকবে এবং তা সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/11057 ,   Print Date & Time: Monday, 28 September 2026, 05:22:30 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh