![]()
মোহাম্মদ ইকবাল জামাল
আন্তর্জাতিক কূটনীতির অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধির নির্বাচিত হওয়া। প্রায় চার দশক পর আবারও বাংলাদেশ এই মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করায় কূটনৈতিক মহলে প্রশংসা ও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
তবে প্রশ্ন উঠছে, এই অর্জনের বাস্তব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রভাব কতটুকু হবে? আন্তর্জাতিক সম্মান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষ, রপ্তানিকারক শিল্প, বিনিয়োগ খাত এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এর সরাসরি সুফল কীভাবে প্রতিফলিত হবে, সেটিও এখন আলোচনার বিষয়।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব পাওয়া একটি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে, কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ায় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে এসব অর্জনের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং শুল্ক নীতি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, রপ্তানি আয় এবং বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়গুলো এখন ব্যবসায়ী মহলের প্রধান উদ্বেগের কারণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জন্য কেবল কূটনৈতিক সাফল্য নয়, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিও জরুরি হয়ে উঠেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে মূল্য সংযোজিত শিল্পায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন এবং নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি। শুধুমাত্র তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে বহুমুখী রপ্তানি কাঠামো গড়ে তুলতে পারলে বৈশ্বিক শুল্ক নীতির নেতিবাচক প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
ফলে জাতিসংঘে নেতৃত্বের এই সম্মানজনক অবস্থান যেমন বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়, তেমনি দেশের অর্থনীতি, শিল্প ও বাণিজ্যের বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাও আগামী দিনের অন্যতম বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।