![]()
দেশে চড়া আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন ফি এবং বৈদেশিক পেমেন্ট সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রিমিয়াম এআই ও সফটওয়্যার সেবার অফিশিয়াল খরচ বহন করা অনেক ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বাস্তবতায় দেশে একটি অনানুষ্ঠানিক রিসেলার বাজার গড়ে উঠেছে, যেখানে স্থানীয় বিক্রেতারা পাইকারিভাবে বা শেয়ার্ড মডেলে সাবস্ক্রিপশন কিনে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে দেশীয় মুদ্রায় ব্যবহারকারীদের কাছে বিক্রি করছে।
অফিশিয়াল মূল্যের তুলনায় এসব রিসেলার প্ল্যাটফর্মের দাম অনেক কম হওয়ায় এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। চ্যাটজিপিটি প্লাস, ক্যানভা প্রো, ইউটিউব প্রিমিয়াম, নেটফ্লিক্সসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে—আন্তর্জাতিকভাবে যেখানে মাসিক খরচ কয়েক হাজার টাকা, সেখানে স্থানীয় রিসেলারদের মাধ্যমে তা কয়েকশ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও ছোট ডিজিটাল এজেন্সিগুলো এসব সেবার দিকে ঝুঁকছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সারের উপস্থিতি এবং তাদের তুলনামূলক সীমিত আয় এই চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। অনেক ব্যবহারকারীই একাধিক সফটওয়্যার ও এআই টুলের অফিসিয়াল সাবস্ক্রিপশন একসাথে বহন করতে না পারায় বিকল্প এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও একাডেমিক কাজের ক্ষেত্রে এসব টুল এখন প্রায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এই অনানুষ্ঠানিক বাজারে সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি রয়েছে। শেয়ার্ড অ্যাকাউন্ট, অননুমোদিত লগইন পদ্ধতি বা থার্ড-পার্টি এক্সটেনশন ব্যবহারের কারণে ব্যবহারকারীদের তথ্য ফাঁস, অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং বা ম্যালওয়্যার সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি এই বাজারটি এখনো স্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হওয়ায় আইনি অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে।
অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আঞ্চলিক মূল্য নির্ধারণ বা স্থানীয় পেমেন্ট সিস্টেম চালু না করলে এই ধরনের সমান্তরাল বাজার আরও বিস্তৃত হবে, কারণ বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য অফিশিয়াল সেবা এখনো আর্থিকভাবে নাগালের বাইরে রয়ে গেছে।