![]()
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং এ দেশের মানুষের স্বকীয়তার প্রতীক। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অল্প সময়েই এই ভূখণ্ডের মানুষের জন্য একটি স্বতন্ত্র জাতীয় পরিচিতি গড়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে পিআইবি ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালের সংকটময় সময়ে যখন দেশের মানুষ নেতৃত্বের ঘোষণা প্রত্যাশা করছিল, তখন চট্টগ্রাম থেকে এক সামরিক কর্মকর্তা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা ও গণহত্যা তিনি একজন প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞ মানুষ হিসেবে কাছ থেকে দেখেছেন, তাই সেই ঘটনাকে কখনোই ক্ষমা করা সম্ভব নয়।
তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তান আমলে শোষণ ও বঞ্চনার বাস্তবতা তিনি দেখেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতির সাক্ষী ছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটেই জিয়াউর রহমানকে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ নেতা হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
বিএনপি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলটি উদার গণতন্ত্র ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী। জিয়াউর রহমান সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং বিভাজনের রাজনীতির পরিবর্তে ঐক্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। তার মতে, সেই ধারাবাহিকতাই বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তা দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল। সেই নীতির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ধারণা নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কাজ করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান। আলোচনায় আরও অংশ নেন বিভিন্ন গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।