![]()
রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ছেলে, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্ম সচিব) এ কে এম আনিসুর রহমানকে বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাকে অবিলম্বে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় একই দিন থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) হিসেবে গণ্য করা হবে।
এর আগে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী সন্তানদের ওপর পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ, খোঁজখবর নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরের একটি বাসা থেকে নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি তিন সন্তানের জননী। তাদের মধ্যে একজন সরকারের যুগ্ম সচিব, একজন শিক্ষক এবং একজন শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন কী বলে?
‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী:
- প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে।
- একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগ করে নেবে।
- পিতা-মাতার নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক।
- আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা জরিমানা বা অনাদায়ে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, পিতা বা মাতার লিখিত অভিযোগ ছাড়া আদালত এ আইনের অধীনে কোনো অপরাধ আমলে নিতে পারে না। ফলে কোনো মামলার ক্ষেত্রে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সাধারণত ভুক্তভোগী পিতা-মাতার অভিযোগ প্রয়োজন হয়।
নুরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক ও আইনগতভাবে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করবে।