• হোম > অর্থনীতি > মে মাসে রপ্তানি আয় কমলো ৭.০৭%, বৈশ্বিক বাজারে চাপে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত

মে মাসে রপ্তানি আয় কমলো ৭.০৭%, বৈশ্বিক বাজারে চাপে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত

  • বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০:৩৭
  • ৭৮

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি খাতে এপ্রিল মাসে আশাব্যঞ্জক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও মে মাসে এসে সেই ধারা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে দেশের রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ কমেছে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়, রপ্তানি বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত মে মাসে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে মোট ৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। অথচ গত বছরের একই মাসে দেশের রপ্তানি আয় ছিল ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। যদিও এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে রপ্তানি আয় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি ছিল, তবুও বছরভিত্তিক হিসাবে নেতিবাচক প্রবণতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশে আমদানি সংকোচন নীতির কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, চামড়া খাত এবং কিছু শ্রমনির্ভর শিল্পে অর্ডার কমে যাওয়ার প্রভাব সামগ্রিক রপ্তানি আয়ের ওপর পড়ছে।

একক মাসের হিসাব ছাড়াও চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্রেও রপ্তানি খাতে দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই থেকে মে) দেশের মোট পণ্য রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমেছে। এটি দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য এবং রপ্তানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৪৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রায় ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় কমেছে, যা অর্থনীতির জন্য উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতের জটিলতা এবং ডলার বিনিময় হারের অস্থিরতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারছে না। ফলে সরকারের পক্ষ থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পে আরও নীতি সহায়তা এবং প্রণোদনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10998 ,   Print Date & Time: Friday, 25 September 2026, 12:50:01 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh