![]()
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শুরু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানির জন্য আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সকাল ১১টায় আদালতে হাজির করা হয়। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় বিচারক তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং মামলায় সাক্ষ্য দেওয়া ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দির সারসংক্ষেপ পড়ে শোনান। এরপর বিচারক তাদের কাছে জানতে চান, তারা নিজেদের দোষী নাকি নির্দোষ বলে দাবি করেন।
জবাবে স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি। অপরদিকে সোহেল রানা নিজেকেও নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে খালাস প্রার্থনা করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে এবং সে বিষয়ে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানি শেষে আদালত আগামী বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এবং আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান গত ২৪ মে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র গ্রহণের পর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। একই দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
পরবর্তীতে ১ জুন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন আদালত রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা, মা পারভীন আক্তার, বোন রাইসা আক্তারসহ ১৬ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী তাদের জেরা করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত আজকের জন্য আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন।