• হোম > বাণিজ্য > নিবন্ধন খরচ কমানো ও স্বল্পসুদে গৃহঋণই পারে আবাসন খাতের মন্দা কাটাতে: বাজেট ২০২৬-২৭ ঘিরে প্রত্যাশা

নিবন্ধন খরচ কমানো ও স্বল্পসুদে গৃহঋণই পারে আবাসন খাতের মন্দা কাটাতে: বাজেট ২০২৬-২৭ ঘিরে প্রত্যাশা

  • মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬, ২০:২৬
  • ৭১

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাত বর্তমানে কঠিন এক সময় পার করছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং ফ্ল্যাট নিবন্ধনে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র করে আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা—একটি বাস্তবমুখী, বিনিয়োগবান্ধব এবং মধ্যবিত্তবান্ধব বাজেট।

গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, নতুন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন নিশ্চিত করা। তিনি জানান, শুধু বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আবাসন সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন এবং ২৫ থেকে ৩০ বছর মেয়াদি স্বল্পসুদে গৃহঋণ চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে একটি ফ্ল্যাট বা জমি নিবন্ধনের ক্ষেত্রে গেইন ট্যাক্স, স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন ফি, ভ্যাট এবং অন্যান্য কর মিলিয়ে মোট খরচ প্রায় ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আবাসন খাতের অংশীজনদের মতে, এই উচ্চ ব্যয় ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্রেতা ফ্ল্যাট কিনলেও নিবন্ধন সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন, ফলে বাজারে স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (সিএসইআর)-এর চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাকিফ শামীম মনে করেন, নিবন্ধন খরচ কমিয়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা গেলে আবাসন খাতে নতুন প্রাণ ফিরে আসবে। তার মতে, নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে ফ্ল্যাট কেনাবেচার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, আবাসন খাত শুধু একটি ব্যবসা নয়; এটি দেশের প্রায় দুই শতাধিক শিল্পখাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। সিমেন্ট, রড, ইট, কাচ, সিরামিক, বৈদ্যুতিক পণ্য, আসবাবপত্র, ব্যাংকিং এবং পরিবহন খাতের লাখো মানুষের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে আবাসন খাত সচল থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ এবং নিবন্ধন ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর ওপর বিদ্যমান কর ও শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। রড, সিমেন্ট ও ইটের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে নির্মাণ ব্যয় কমবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য ফ্ল্যাট কেনা আরও সহজ হবে।

আসন্ন বাজেটে যদি আবাসন খাতের জন্য কার্যকর প্রণোদনা, স্বল্পসুদে গৃহঋণ এবং নিবন্ধন ব্যয় কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দেশের রিয়েল এস্টেট খাত আবারও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10953 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 09:25:43 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh