![]()
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সিন্ডিকেটের সুযোগ দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার (২ জুন) প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং আগামী ১০–১৫ দিন থেকে এক মাসের মধ্যে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যা অনেকেই ‘সিন্ডিকেট’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, অতীতের অনিয়ম ও সিন্ডিকেট পদ্ধতির পুনরাবৃত্তি আর হতে দেওয়া হবে না এবং শ্রমবাজার উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ এবং নির্ধারিত সময়ে কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের বিভিন্ন অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য মন্ত্রণালয়ে ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ গঠন করা হয়েছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। প্রবাসীরা সরাসরি বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এ সেলে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং প্রাপ্ত অভিযোগ নিয়মিতভাবে মন্ত্রী ও সচিবকে অবহিত করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান করা হবে বলেও তিনি জানান।
প্রবাসীদের জন্য একটি একক ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে আলাদা বিএমইটি কার্ডের প্রয়োজন হবে না এবং প্রবাসীরা একটি কার্ডের মাধ্যমেই বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। কার্ডটি ব্যাংকিং, রেমিট্যান্স সেবা, ডিজিটাল পরিচয় ও তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা ও ভূমি-সংক্রান্ত সেবায় অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহার হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব সুবিধার চূড়ান্ত কাঠামো এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি আরও বলেন, কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি লাইসেন্স বাতিলের পর অন্য নামে কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্ত করতে না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।