• হোম > রাজনীতি > ঈদ ব্যবস্থাপনায় সফলতা: প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তনের দাবি সরকারের

ঈদ ব্যবস্থাপনায় সফলতা: প্রধানমন্ত্রীর ১০ নির্দেশনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তনের দাবি সরকারের

  • সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ২২:৪২
  • ৫৩

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ দফা বিশেষ নির্দেশনা বাস্তবায়নের ফলে এবারের ঈদুল আজহা ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম ঈদুল আজহাকে ঘিরে জনসেবা, নিরাপত্তা, পরিবহন, বিদ্যুৎ, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে সরকারের কার্যক্রমে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ গণমুখী বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চামড়া খাতের ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা।

সরকারের দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘ ছুটির কারণে ঈদযাত্রায় চাপ কমে আসে এবং মহাসড়কে যানজট তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল। বিভিন্ন রুটে বিশেষ নজরদারি এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের ফলে যাত্রীসেবায় উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান যাত্রীদের স্বস্তি দিয়েছে।

পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে সরকার, ব্যাংক এবং মালিকপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করা হয়। ফলে শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ কম ছিল এবং অধিকাংশ শ্রমিক সময়মতো তাদের প্রাপ্য অর্থ হাতে পেয়েছেন।

কোরবানির পশুর বাজারে দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা দিতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশে পশুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি ছিল। ফলে কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় থাকলেও কিছু প্রান্তিক খামারি প্রত্যাশিত মূল্য পাননি বলে স্বীকার করা হয়েছে।

নগর ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌরসভা বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। সরকারের দাবি, অধিকাংশ এলাকায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় অনেক দ্রুত।

মাহদী আমিন বলেন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নজরদারি জোরদার করা হয়। নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ট্রেন ও মেট্রোরেলে বিশেষ সংরক্ষিত কোচ চালু করা হয়। প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্যও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চঘাটে কুলি ও হকারমুক্ত পরিবেশ এবং নতুন লঞ্চঘাট চালুর মতো উদ্যোগ যাত্রীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পশুর হাটে অবৈধ চাঁদা আদায় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে অধিকাংশ এলাকায় লোডশেডিং সীমিত পর্যায়ে ছিল।

সরকারের মতে, এসব উদ্যোগ শুধু একটি উৎসব ব্যবস্থাপনার অংশ নয়; বরং জনগণের কাছে রাষ্ট্রীয় সেবাকে আরও কার্যকর, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব করে তোলার একটি উদাহরণ। ভবিষ্যতেও সুশাসন, গণতন্ত্র এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10901 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 06:17:49 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh