![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক-এফওআইপি) কৌশল বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে জাপান। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে টোকিও।
সোমবার ঢাকায় জাপান দূতাবাসের প্রকাশিত এক বার্তায় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী অবস্থান এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় বাংলাদেশ বর্তমানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফরে ‘আপডেটেড ফ্রি অ্যান্ড ওপেন ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা তুলে ধরেছেন। সেই নতুন কৌশলগত কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমুদ্রভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও জাপান একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
জাপানের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ রাষ্ট্রগঠন এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়িত হয়েছে। সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন এবং নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণকে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অংশীদারত্ব ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে এই সম্পর্ক কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ নিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ দেশের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এসব প্রকল্প ‘বিগ-বি’ বা বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাষ্ট্রদূত জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অটুট রয়েছে এবং জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তির পাশাপাশি জাপানের ‘অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। জাপানের মতো অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।