![]()
![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চলমান আলোচনা ও জনমতের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার কোনোভাবেই জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে সরকার বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দামে সমন্বয় করেছে।
সোমবার (১ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে মূল্য সমন্বয় ছাড়া বিকল্প ছিল না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নেওয়া অর্থনৈতিক বাস্তবতার সিদ্ধান্ত।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ডিজেল, যা দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৬ শতাংশ। কৃষি, পরিবহন, শিল্প এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ায় ডিজেলের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারত। এ কারণেই সরকার ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা। সেই বিবেচনায় অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দামে সীমিত পরিসরে সমন্বয় করা হয়েছে। সরকার চেষ্টা করেছে যাতে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ন্যূনতম পর্যায়ে থাকে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট দ্রুত সমাধানের দিকে এগোবে। আন্তর্জাতিক বাজারে যদি জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়, তাহলে বাংলাদেশেও দ্রুত মূল্য পুনঃসমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সমন্বয় ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।
এদিকে নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সোমবার থেকে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে। যদিও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় কৃষি ও পরিবহন খাতে তাৎক্ষণিক বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।