• হোম > রাজনীতি > প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই, শোকের ছায়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে

প্রবীণ রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই, শোকের ছায়া দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে

  • সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৯:৫৩
  • ৮১

---

 ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক মন্ত্রী এবং নয়বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির একটি পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে তার উত্থান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তার নেতৃত্ব তাকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি এনে দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি হিসেবে তিনি ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। শৈশব থেকেই তিনি নেতৃত্বগুণ এবং রাজনৈতিক সচেতনতার পরিচয় দেন। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় থেকেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তোফায়েল আহমেদ মোট নয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। তিনি বিভিন্ন সময় শিল্প, বাণিজ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে দায়িত্ব পালন করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেশের রাজনীতিতে বিশেষভাবে স্বীকৃত ছিল।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তোফায়েল আহমেদের জীবন ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতীয় রাজনীতিতে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10891 ,   Print Date & Time: Monday, 5 October 2026, 02:17:47 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh