• হোম > বিদেশ > ট্রাম্প এখন বিশ্বের প্রতি ১৩ দেশের ১টিতে হামলা করেছেন বা হামলার হুমকি দিয়েছেন

ট্রাম্প এখন বিশ্বের প্রতি ১৩ দেশের ১টিতে হামলা করেছেন বা হামলার হুমকি দিয়েছেন

  • সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১২:২১
  • ৭৯

ট্রাম্প এখন বিশ্বের প্রতি ১৩ দেশের ১টিতে হামলা করেছেন বা হামলার হুমকি দিয়েছেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় নির্বাচনী প্রচারণায় নিজেকে যুদ্ধবিরোধী নেতা হিসেবে তুলে ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ‘যুদ্ধবাজ’ বলে সমালোচনা করতেন। তবে তার দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্সিতে বিভিন্ন দেশকে সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া বা সরাসরি হামলা চালানোর অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওমানকে ঘিরে দেওয়া এক মন্তব্যের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এই মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক সামরিক হুমকি হিসেবেই দেখছেন।

সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদে ইরান, ইরাক, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ভেনেজুয়েলা এবং ইয়েমেনে বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযান বা হামলা পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি কানাডা, কলম্বিয়া, কিউবা, গ্রিনল্যান্ড, মেক্সিকো, পানামা এবং ওমানসহ কয়েকটি দেশকে নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান বা সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর ফলে দুই মেয়াদ মিলিয়ে অন্তত ১৫টি দেশ কোনো না কোনোভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক চাপ, হুমকি বা অভিযানের আওতায় এসেছে বলে সমালোচকরা দাবি করছেন।

বিশ্লেষকদের একটি অংশ ট্রাম্পের কৌশলকে ‘ম্যাডম্যান থিওরি’ বা ‘উন্মাদ নীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই ধারণা অনুযায়ী, একজন নেতা নিজেকে অনির্দেশ্য ও অপ্রত্যাশিত হিসেবে উপস্থাপন করেন, যাতে প্রতিপক্ষ তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকে এবং চাপের মুখে সমঝোতায় যেতে বাধ্য হয়। ট্রাম্পের সমর্থকদের মতে, এই কৌশলই অনেক ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামরিক সংঘাতের ঝুঁকিও বেড়েছে।

পরিসংখ্যানগতভাবে দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশের মধ্যে ১৫টি দেশ কোনো না কোনো সময়ে ট্রাম্পের হুমকি বা সামরিক পদক্ষেপের আলোচনায় এসেছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ১৩টি দেশের মধ্যে একটি দেশ তার প্রশাসনের সরাসরি চাপের মুখে পড়েছে বলে সমালোচকরা উল্লেখ করছেন। একইভাবে, এসব দেশের মোট জনসংখ্যা বিবেচনায় নিলে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এমন অঞ্চলে বসবাস করেন, যেগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের নিরাপত্তা বা সামরিক নীতির আওতায় এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যেও ট্রাম্পের নীতির প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন এবং ওমানকে ঘিরে তার অবস্থান এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশকে ঘিরেও তার কঠোর অবস্থান দেখা গেছে। এমনকি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মন্তব্যের মাধ্যমে ইউরোপীয় ভূরাজনীতিতেও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।

তবে উল্লেখ্য, এসব দাবি ও বিশ্লেষণের অনেকটাই রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও মতামতনির্ভর। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামরিক অভিযানগুলো সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম হিসেবে পরিচালিত হয়েছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা নিরাপত্তা হুমকিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ফলে ট্রাম্পকে কতটা ‘যুদ্ধবাজ’ বা ‘আগ্রাসী’ বলা যাবে, তা এখনো রাজনৈতিক ও একাডেমিক বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10871 ,   Print Date & Time: Sunday, 4 October 2026, 10:15:17 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh