![]()
ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার এখন পর্যটকদের পদচারণায় মুখর। ঈদের দিন থেকে শুরু হওয়া পর্যটকদের আগমন রোববার (৩১ মে) পর্যন্ত আরও বেড়েছে। সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা, সি-গাল ও কলাতলী পয়েন্টে সকাল থেকেই ছিল উপচে পড়া ভিড়।
ঈদের প্রথম দিকের তীব্র গরমের পর ভোরের বৃষ্টিতে আবহাওয়া মনোরম হয়ে ওঠায় পর্যটকদের আনন্দও বেড়ে যায়। অনেকে সমুদ্রে গোসল, ঘোড়ায় চড়া, বিচ বাইক চালানো এবং ছবি তোলার মাধ্যমে সময় উপভোগ করেন।
সি-সেফ লাইফগার্ড সংস্থার সিনিয়র লাইফগার্ড জয়নাল আবেদীন ভুট্টো জানান, শুধু রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ২ লাখের বেশি পর্যটক সমাগম হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের দিন পর্যটক তুলনামূলক কম থাকলেও পরবর্তী দিনগুলোতে সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফগার্ডরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি।
কক্সবাজার হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার জানান, ঈদের ছুটির প্রথম চার দিনে প্রায় ৪ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। শহরের ৫০০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও গেস্টহাউসের প্রায় ৯৫ শতাংশ কক্ষ বুকড ছিল।
পর্যটকদের অনেকেই জানিয়েছেন, ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতেই তারা সমুদ্রসৈকতে এসেছেন। ঢাকার পর্যটক কবিরুল আনোয়ার বলেন, সমুদ্রের প্রতি তার এক বিশেষ টান রয়েছে এবং প্রতিবারই এখানে এসে নতুন অনুভূতি পান। অন্য পর্যটকদের মতে, সমুদ্রের শীতল বাতাস ও মনোরম পরিবেশ তাদের ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তুলেছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তায় সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর মনিরুল ইসলাম জানান, বিশেষ টহল দল, কুইক রেসপন্স টিম, মোবাইল ইউনিট ও স্ট্যান্ডবাই টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।
পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুস শুক্কুরের ধারণা, এবারের ঈদে পর্যটনকেন্দ্রিক লেনদেন ৭০০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
এদিকে জেলা প্রশাসক মো. এ মান্নান জানিয়েছেন, হোটেল ভাড়া ও খাবারের অতিরিক্ত মূল্য আদায় রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সক্রিয় রয়েছে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।