![]()
তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে দুই দেশ। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানও আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির খসড়া অনুমোদনের কথা জানায়নি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা, ইরানের বন্দর অবরোধ শিথিল করা এবং তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চুক্তিটি কার্যকর হলে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি। সম্ভাব্য সমঝোতার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। প্রাথমিক লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ৬৭ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৮৭ ডলার ৬৪ সেন্টে দাঁড়ায়। সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্টের দাম কমেছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ।
জানা গেছে, ৬০ দিনের এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল করবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাইনি, তবে খুব কাছাকাছি অবস্থানে আছি। সমঝোতা হবেই এমন নিশ্চয়তা দিতে পারছি না, কিন্তু আমি আশাবাদী।”
তবে অতীত অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর আগেও একাধিকবার সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বলা হলেও পরে ইরান সেসব দাবিকে অস্বীকার করেছে। এবারও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তাসনিম সংবাদ সংস্থা আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চুক্তির পাঠ এখনো চূড়ান্ত বা অনুমোদিত হয়নি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্য সঠিক নয়।
অন্যদিকে স্কট বেসেন্ট হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের আগে কোনো চুক্তি হয়েছে বলে নিশ্চিত করা ঠিক হবে না। তার ভাষায়, সবকিছুই প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর এই উদ্যোগ সফল হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাই কমবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি অনিশ্চিতই রয়ে যাচ্ছে।