![]()
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে ও নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং একজন বাস্তববাদী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের স্বরূপ জনগণের মণিকোঠায় চিরজাগরূক হয়ে থাকবে।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর কর্মময় জীবন, গভীর দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় অটলতা, স্বনির্ভর উন্নয়ন ভাবনা এবং জীবনাদর্শ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
বাণীতে রাষ্ট্রপ্রধান শহীদ জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে দেশবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তিনি নির্মমভাবে শহীদ হন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের এই বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জিয়াউর রহমান পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তার এই আহ্বান ও স্বাধীনতার ঘোষণা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের জন্য তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জিয়াউর রহমান বিভিন্ন যুগান্তকারী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তার ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল উৎপাদনমুখী ও আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের একটি রূপরেখা।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারণে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথাও তিনি স্মরণ করেন।
বাণীর শেষাংশে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশ পরিচালনায় স্বল্প সময় পেলেও জিয়াউর রহমান গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন, যা আজও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।