![]()
চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরোনো সংকট আবারও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং আড়তদারদের অনীহার কারণে ক্ষুব্ধ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেক স্থানে সড়কে চামড়া ফেলে রেখে চলে গেছেন।
কেউ নামমাত্র দামে চামড়া বিক্রি করেছেন, আবার কেউ লোকসান সইতে না পেরে বিনা টাকায় আড়তে রেখে এসেছেন। ফলে এবারের চামড়ার বাজারেও সিন্ডিকেটের অভিযোগ ও ব্যবসায়ীদের হতাশা সামনে এসেছে।
ঈদের দিন বিকেল পর্যন্ত চট্টগ্রামের চামড়ার বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরের আতুরার ডিপো ও আগ্রাবাদ চৌমুহনী এলাকায় বিশৃঙ্খলা শুরু হয়।
শুক্রবার সকালে আতুরার ডিপো এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে গরুর শত শত চামড়া। এসব চামড়া থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং মাছি ভনভন করছে। অনেক চামড়ায় ইতোমধ্যে ময়লা জমে নষ্ট হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর বর্জ্যবাহী ট্রাক চামড়া অপসারণ করছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা জানান, গতবারের তুলনায় এবার সড়কে ফেলে যাওয়া চামড়ার পরিমাণ কিছুটা কম। এখন পর্যন্ত বহদ্দারহাট ও বড়পোল এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি চামড়া সংগ্রহ করে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আড়তদাররা পরিকল্পিতভাবে সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিয়েছেন। তাদের দাবি, ঈদের দিন বিকেল পর্যন্ত বাজারে চাহিদার আভাস থাকলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আড়তদাররা হঠাৎ দাম কমিয়ে দেন। ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় কেনা চামড়ার বিপরীতে মাত্র ৫০ থেকে ১৫০ টাকা দাম প্রস্তাব করা হয়।
হাটহাজারীর মৌসুমি ব্যবসায়ী রাজ্জাক মিয়া বলেন, তিনি ২০০টি চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন, যার প্রতিটির গড় কেনা দাম ছিল ৩০০ টাকা। কিন্তু আড়তদাররা গাড়িভাড়াও দিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষোভে সব চামড়া সড়কে ফেলে দেন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম বৃহত্তর কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি দাবি করেছে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ীই চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে। সমিতির তথ্যমতে, এবার প্রায় ৪০ জন আড়তদার চামড়া কিনেছেন এবং চট্টগ্রাম জেলা ও নগর মিলিয়ে প্রায় ৪ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।
সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. আইয়ুব বলেন, তারা সাড়ে ৩ লাখের বেশি চামড়া সংগ্রহ করেছেন। মানভেদে ২৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় চামড়া কেনা হয়েছে। অনেক আড়তদার তাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি চামড়া কিনেছেন।
সড়কে চামড়া ফেলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক চামড়ার গুণগত মান ভালো ছিল না। কোথাও কাটা বা দাগ থাকায় ট্যানারিগুলো সেসব চামড়া নিতে চায় না। তবে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে।