• হোম > দেশজুড়ে | বাংলাদেশ > চামড়ার বাজারে অস্থিরতা: সাইন্সল্যাবে ৭০০ টাকার চামড়া ৫০০ টাকা, লোকসানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

চামড়ার বাজারে অস্থিরতা: সাইন্সল্যাবে ৭০০ টাকার চামড়া ৫০০ টাকা, লোকসানে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

  • বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৯:২৬
  • ৬১

---

রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়ার জমজমাট বেচাকেনার মধ্যেও দামে চরম অস্থিরতা ও লোকসানের অভিযোগ উঠেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেটের কারণে তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে সাইন্সল্যাব এলাকায় দেখা যায়, প্রায় ২০টি অস্থায়ী পয়েন্টে চামড়ার কেনাবেচা চলছে। পিকআপ, ভ্যান ও অটোরিকশায় করে বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া এনে স্তূপ করা হচ্ছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও বাজারদর বাড়েনি। প্রতি পিস গরুর চামড়া ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সাভার থেকে চামড়া এনে বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী রতন ব্যাপারি অভিযোগ করেন, ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে চামড়া কিনলেও সাইন্সল্যাবে এসে ৫০০ টাকার বেশি দাম পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে আমাদের বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে।”

একই ধরনের অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ও মোহাম্মদ রাসেল। তারা দাবি করেন, বাজারের বেশিরভাগ ক্রেতাই একই দামে চামড়া কিনতে চাচ্ছেন, ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হচ্ছে না।

তবে কিছু বিক্রেতা সামান্য লাভ করতে পেরেছেন। ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জয় জানান, তিনি মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে চামড়া সংগ্রহ করে প্রতি পিসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা লাভে বিক্রি করেছেন।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দাম আরও কমে যায়। কিছু চামড়া মাত্র সাড়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। হাতিরপুল এলাকা থেকে আনা ১০টি গরুর চামড়া দুই শিক্ষার্থী ওই দামে বিক্রি করেন।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, কাঁচা চামড়া দ্রুত বিক্রি বা লবণ দিয়ে সংরক্ষণ না করলে গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর থেকেই ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং চামড়ার দাম কমে যায়।

সরকারের নির্ধারিত দামে ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও মাঠপর্যায়ে সেই দামের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অতিরিক্ত সরবরাহ এবং ট্যানারি পর্যায়ে প্রত্যাশিত চাহিদা না থাকায় এ বছরও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10716 ,   Print Date & Time: Saturday, 10 October 2026, 12:48:16 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh