• হোম > গাজীপুর | বাংলাদেশ > ঈদযাত্রা: রাতভর গাজীপুরের দুই মহাসড়কে যানজটের সঙ্গে ভোগান্তি বাড়িয়েছে বৃষ্টি-বাড়তি ভাড়া

ঈদযাত্রা: রাতভর গাজীপুরের দুই মহাসড়কে যানজটের সঙ্গে ভোগান্তি বাড়িয়েছে বৃষ্টি-বাড়তি ভাড়া

  • বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১১:৪৫
  • ৪৬

---

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এখন ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে। তবে ঈদযাত্রার এই আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে তীব্র যানজট, টানা বৃষ্টি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ।

মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া যানজট রাতভর স্থায়ী হয়। বুধবার সকালে সড়কে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টি নতুন করে দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয়। গাজীপুরের প্রায় দেড় হাজার পোশাক কারখানাসহ আড়াই হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানে একযোগে ঈদের ছুটি ঘোষণার পর লাখো মানুষ একসঙ্গে বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে ভিড় করেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈর পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঢাকা থেকে রওনা হয়ে অনেক যাত্রীর চন্দ্রা পার হতেই ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লেগেছে। কেউ কেউ মাত্র ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেছেন। রাতভর বিভিন্ন স্থানে যানবাহন দীর্ঘসময় স্থবির হয়ে পড়ে থাকে।

বুধবার সকালে বৃষ্টির কারণে মহাসড়কের পাশে বাসের অপেক্ষায় থাকা শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। কাঙ্ক্ষিত গাড়ি না পেয়ে এবং অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জগামী যাত্রী জোবায়ের হোসেন বলেন, চৌরাস্তা থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড়ে যেতে যেখানে সাধারণত এক ঘণ্টা লাগে, সেখানে মঙ্গলবার রাতে রওনা হয়ে বুধবার ভোরে পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, খোলা ট্রাকে যারা যাচ্ছেন, বৃষ্টিতে ভিজে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।

ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি যাওয়া তানিয়া আক্তার জানান, ১০ দিনের ছুটির দুই দিনই প্রায় রাস্তায় কেটে যাচ্ছে। মঙ্গলবার যানজট দেখে বাসায় ফিরে যেতে হয়েছিল, আর বুধবার সকালে বের হয়ে পড়েছেন বৃষ্টি ও গাড়ি সংকটে।

অন্যদিকে বগুড়াগামী যাত্রী আবু সাঈদ অভিযোগ করেন, শেষ মুহূর্তে বাসভাড়া কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। একদিকে বৃষ্টি, অন্যদিকে অতিরিক্ত ভাড়া—দুই মিলিয়ে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, চন্দ্রা এলাকায় শেষ মুহূর্তের যাত্রীর চাপ থাকলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও পরিবহন বিভাগের স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন। শুধু চন্দ্রা এলাকাতেই রাতে প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সওগাতুল আলম বলেন, অতিরিক্ত মানুষের চাপ ও যানবাহনের কারণে রাতে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছিল। সকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বৃষ্টির কারণে যানবাহনের গতি কমে গেছে। তবে দুপুরের মধ্যে সড়ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন তিনি।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে। তবে বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি জমে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় চাপ আরও বেড়েছে। বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10642 ,   Print Date & Time: Wednesday, 19 August 2026, 03:43:58 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh