![]()
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে যখন বেচাকেনা জমে উঠতে শুরু করেছিল, ঠিক তখনই বৃষ্টির কারণে মঙ্গলবার সেই স্বাভাবিক গতি অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে। সকাল থেকেই ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও দুপুরের পর প্রবল বৃষ্টিতে হাটের পরিবেশ বদলে যায়। অনেক ক্রেতা দ্রুত হাট ছেড়ে চলে যান, ফলে বেচাকেনার গতি কমে যায় এবং ব্যাপারীরা পড়ে যান চরম অনিশ্চয়তায়।
হাটগুলোতে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানিতে কাদা জমে যাওয়ায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে এবং কোথাও কোথাও পানি জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়। এতে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাপারীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। ধোলাইখাল হাটের রাজশাহী থেকে আসা ব্যাপারী খলিল হোসেন জানান, সকাল থেকে ক্রেতা থাকলেও বৃষ্টির পর সবাই চলে যায়, ফলে গরু সামলানোই কঠিন হয়ে পড়ে। একই হাটে চাঁদপুরের ব্যাপারী আবদুল কাদিরও অভিযোগ করেন, পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই হাটের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়।
ক্রেতাদের মধ্যেও দেখা গেছে হতাশা। পোস্তগোলা হাটে আসা জুরাইনের বাসিন্দা মালেক হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে কেনাবেচার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে গরু কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে হয়েছে। একইভাবে ধোলাইখালে আসা আমজাদ হোসেনও বৃষ্টির কারণে গরু না কিনেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
কমলাপুর হাটেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে, যেখানে ব্যাপারীরা ত্রিপল টাঙিয়ে গরু রক্ষার চেষ্টা করেন। সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যাপারী মিন্টু মিয়া জানান, বেচাকেনা না হলে বড় লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে, কারণ এবার পরিবহন ও খরচ অনেক বেশি।
হাট সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত বিকাল ও সন্ধ্যায় হাটে ভিড় বাড়লেও বৃষ্টির কারণে সেই স্বাভাবিক চিত্র বদলে যেতে পারে। এতে ঈদের আগে পশুর হাটের বেচাকেনা ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি কিছুটা ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।