![]()
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামায় প্রধান মহাসড়কগুলোতে আবারও ভয়াবহ যানজট ও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। গাজীপুরের চন্দ্রা, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এবং যমুনা সেতু এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থেমে থেমে চলছে গাড়ি। কোথাও কোথাও মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই যাত্রীদের ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ ও ধীরগতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাজার হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সঠিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার অভাবে ঈদযাত্রার ভোগান্তি কমছে না। চন্দ্রা মোড়, এলেঙ্গা এবং যমুনা সেতু এখনো মূল বটলনেক হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে ফ্লাইওভার ও চার লেন সড়ক থাকা সত্ত্বেও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। শিল্পাঞ্চল, পশুর হাট, রাস্তার পাশে অবৈধ পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিও যানজট আরও তীব্র করে তুলছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, ডাইভারশন ও নিয়ন্ত্রণমূলক নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল এলাকায় একসঙ্গে কারখানা ছুটি হওয়ায় হাজার হাজার শ্রমিক একসাথে রাস্তায় নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় প্রকল্প দীর্ঘসূত্রতা ও বাস্তবায়ন জটিলতার কারণে এখনও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ফলে প্রতি ঈদেই একই ধরনের ভোগান্তি পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এবং যাত্রীদের দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।