![]()
ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে চালু হওয়া এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থাকে ঘিরে একটি নতুন ধরনের ডিজিটাল প্রতারণা (ফিশিং স্ক্যাম) সক্রিয় হয়েছে। এতে সাধারণ গাড়িচালকদের পাশাপাশি প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন।
প্রযুক্তি পেশাজীবী আব্দুর রাকিব সম্প্রতি একটি ভুয়া এসএমএস পান, যেখানে দাবি করা হয় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ৩ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। বার্তায় আরও বলা হয়, সাত দিনের মধ্যে পরিশোধ করলে ১ হাজার ৫০০ টাকা ছাড় পাওয়া যাবে। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে সত্য মনে করলেও পরে এটি প্রতারণা বলে বুঝতে পারেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার বিভিন্ন সিগনাল ও মোড়ে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই এ ধরনের ভুয়া এসএমএসের সংখ্যা বেড়েছে। এই সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ করে মামলা তৈরি করা হয়।
তবে প্রতারকরা এই ব্যবস্থার নাম ব্যবহার করে ভুয়া লিংকসহ এসএমএস পাঠাচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারীদের ব্যাংকিং তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এসব লিংকে প্রবেশ করলে ব্যাংক কার্ড, পিন বা ওটিপি চুরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, এসব এসএমএস সম্পূর্ণ ভুয়া এবং ট্রাফিক বিভাগ থেকে এমন কোনো জরিমানার নোটিফিকেশন মোবাইলে পাঠানো হচ্ছে না। বর্তমানে কেবল ডাকযোগে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
ডিএমপি আরও জানায়, ভবিষ্যতে ডিজিটাল নোটিফিকেশন চালুর পরিকল্পনা থাকলেও সেটি এখনো চালু হয়নি। শুধুমাত্র নির্দিষ্ট দুইটি সরকারি নম্বর থেকে (০১৩২০-০৪২২০৭ এবং ০১৩২০-০৪২২২৭) এসএমএস পাঠানো হতে পারে।
এআই ট্রাফিক সিস্টেমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিএমপির সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট শারমিন আফরোজ বলেন, ভবিষ্যতে ডিজিটাল নোটিফিকেশন চালুর পরিকল্পনা থাকলেও বর্তমানে তা কার্যকর নয়।
ডিএমপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা কখনোই এসএমএস বা অন্য কোনো মাধ্যমে পিন নম্বর, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি চায় না। এমন বার্তা পাওয়া গেলে তা প্রতারণা হিসেবে ধরে নিতে হবে। প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বর বা নির্ধারিত হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।