![]()
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোর অধিকাংশ কারখানায় এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। তবে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কারখানায় ঈদ বোনাস বকেয়া রয়েছে।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট শিল্পাঞ্চলের মোট ১০ হাজার ২৩৮ কারখানার মধ্যে ১০ হাজার ৭৬টি কারখানা এপ্রিলের বেতন পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ প্রায় ৯৮ দশমিক ৪২ শতাংশ কারখানায় বেতন দেয়া হয়েছে। বেতন বকেয়া রয়েছে ১৬২টি কারখানায়।
অন্যদিকে ঈদ বোনাস পরিশোধ হয়েছে ৮ হাজার ৭৩৮ কারখানায়। এখনো ১ হাজার ৫০০ কারখানায় বোনাস বকেয়া রয়েছে, যা মোট কারখানার প্রায় ১৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ এবং বেপজা-এর আওতাধীন ৩ হাজার ২৭০ কারখানার মধ্যে এপ্রিলের বেতন বকেয়া রয়েছে ৯২টিতে। একই সংগঠনগুলোর ৪০৯ কারখানায় এখনো ঈদ বোনাস পরিশোধ হয়নি।
শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকার, শিল্প পুলিশ এবং মালিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শ্রমমন্ত্রী ও শ্রম সচিব সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বিভিন্ন কারখানার সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন।
গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি “মোটামুটি ভালো” এবং বেশিরভাগ বকেয়া বোনাস আজকের মধ্যেই পরিশোধ হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, আশুলিয়ার আলিফ গার্মেন্টস এবং এনার্জিপ্যাক-এ কিছু শ্রম অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। শ্রমিকরা সড়কে নেমে আসার চেষ্টা করলে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছে।
নারায়ণগঞ্জের বি ব্রাদার্স নামের একটি কারখানাতেও সমস্যা রয়েছে, তবে সেটিও সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
গাজী জসীম উদ্দিন বলেন, কিছু ক্ষেত্রে মালিকপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করতেও হয়েছে, যাতে শ্রমিকরা সময়মতো বেতন-ভাতা পেয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।
গত ১৪ মে ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের সভায় আরিফুল হক চৌধুরী ২১ মের মধ্যে ঈদ বোনাস এবং নির্ধারিত সময়ে মাসিক বেতন পরিশোধের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ করা গেলে শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষ এড়ানো সম্ভব হবে।
পরবর্তীতে শিল্প পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের ঈদের ছুটির আগেই সব বেতন-বোনাস পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমিক অসন্তোষ যেন সড়ক অবরোধে রূপ না নেয়, সে বিষয়ে পুলিশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি কারখানায় ঈদ বোনাস বকেয়া রয়েছে। এ অঞ্চলের ১ হাজার ৯৬০ কারখানার মধ্যে ৭৭১টিতে এখনো বোনাস পরিশোধ হয়নি।
অন্যদিকে সিলেট অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। সেখানে ৭৪৮ কারখানার মধ্যে মাত্র ২৮টিতে বোনাস বকেয়া রয়েছে।
সংগঠনভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, বিজিএমইএর ১ হাজার ৭৯০ সদস্য কারখানার মধ্যে ২২০টিতে, বিকেএমইএর ৭০৮ কারখানার মধ্যে ১২৬টিতে এবং বিটিএমএর ৩৮২ কারখানার মধ্যে ৫৭টিতে এখনো ঈদ বোনাস বকেয়া রয়েছে।
এদিকে বিজিএমইএ সূত্র দাবি করেছে, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তাদের অধিকাংশ সদস্য কারখানাই এপ্রিলের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে। অনেক কারখানা মে মাসের বেতনও অগ্রিম পরিশোধ করেছে বলে জানানো হয়েছে।