• হোম > দক্ষিণ আমেরিকা | বিদেশ | মধ্যপ্রাচ্য > যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেই ইরানে নতুন করে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেই ইরানে নতুন করে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

  • মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১১:৫৩
  • ৬৩

---

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানে নতুন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের দাবি, মাইন পেতে রাখার চেষ্টা করা নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে “প্রতিরক্ষামূলক” হামলা চালানো হয়েছে।

একই সময়ে কাতারের রাজধানী দোহায় ইরানের প্রধান আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি সম্ভাবনা নিয়ে বৈঠক করছিলেন কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরান—দুই পক্ষই দ্রুত সমঝোতার সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা “ভালোভাবেই” এগোচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন হামলার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। ট্রাম্প লেখেন, “এটি সবার জন্য দারুণ একটি চুক্তি হবে, নইলে কোনো চুক্তিই হবে না।”

এর আগে নয়াদিল্লিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিকে সফল হওয়ার সুযোগ দেবে, তবে প্রয়োজন হলে “অন্যভাবে”ও ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার এবং পারমাণবিক ইস্যুতে সময়সীমাভিত্তিক আলোচনা শুরুর একটি প্রস্তাব টেবিলে রয়েছে।

পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরানি হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের রক্ষার উদ্দেশ্যে নতুন হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বাহিনী সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র “সংযম বজায় রেখে” পদক্ষেপ নিচ্ছে।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা নতুন ধরনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি “শত্রু” স্টেলথ ড্রোন ভূপাতিত করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম বলছে, এটি পারস্য উপসাগরের আকাশসীমায় নতুন বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করা হবে। পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা পূর্ব লেবাননের বেকা উপত্যকাসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

যদিও গত এপ্রিলের মাঝামাঝি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, ইসরায়েল দাবি করছে—আত্মরক্ষার অংশ হিসেবেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে।

দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় মূলত হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে জব্দ থাকা ইরানি অর্থ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, কাঠামোগত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক ইস্যুতে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে না। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান কোনো টোল নেবে না, তবে নৌ-নির্দেশনা ও পরিবেশ সুরক্ষাসংক্রান্ত সেবার জন্য ফি থাকতে পারে।

ট্রাম্প তার পোস্টে আরও কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস-এ যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, মিসর, জর্ডান এবং তুরস্ককে এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

তবে পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরান ইস্যুকে ব্যবহার করে বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা হলেও বিষয়গুলো “পরস্পর সম্পর্কযুক্ত নয়”।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ-এর ইরান প্রকল্প পরিচালক আলি ভায়েজ মন্তব্য করেন, ট্রাম্প ইরান চুক্তিকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ধারাবাহিকতা হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন, কিন্তু বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।

এদিকে জাপানের নিক্কেই জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রায় ৩০ দিন পর হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করবে ইরান, এরপর সব দেশের জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10598 ,   Print Date & Time: Sunday, 11 October 2026, 11:56:23 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh