![]()
ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হলেও ঈদযাত্রায় যানজট ও দুর্ভোগ কমেনি। ২০২২ সালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ব্যয় হয় ৬ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে টাঙ্গাইল থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে আরও ১৯ হাজার ৫৬ কোটি টাকা।
তবুও ঈদুল ফিতরের মতো এবার ঈদুল আজহাতেও উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীরা তীব্র যানজটের মুখে পড়েছেন। গতকাল দুপুরের পর থেকে কড্ডা-চন্দ্রা ও চন্দ্রা-নবীনগর অংশে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। আজ গাজীপুর অঞ্চলের শিল্প-কারখানা ছুটি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যানজটের পাশাপাশি মহাসড়কটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে। গতকাল ভোরে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে অন্তত ১৫ জন নিহত হন। নিহতদের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের মানুষ ছিলেন, যারা খরচ বাঁচাতে ট্রাকের ছাদে যাতায়াত করছিলেন।
এ ঘটনায় শেখ রবিউল আলম ট্রাকচালককে দায়ী করে বলেন, সড়কের অবকাঠামো বা ব্যবস্থাপনায় কোনো ত্রুটি ছিল না। তিনি ঢাকার ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনএ সিনিয়র সিটিজেন ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রীদের জন্য ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় এ মন্তব্য করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলমান উন্নয়নকাজ, অসম্পূর্ণ চার লেন, ফ্লাইওভারের আংশিক নির্মাণ, বাজার ও অব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে মহাসড়কে বটলনেক তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামোগত চরিত্র এখনো গড়ে ওঠেনি। কোথাও দুই লেন, কোথাও অসম্পূর্ণ চার লেন এবং অসমাপ্ত ফ্লাইওভারের কারণে পুরো সড়কে কাঙ্ক্ষিত গতি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, অবকাঠামোর পাশাপাশি সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অভাব বড় ব্যর্থতা। শুধু সড়ক নির্মাণ করলেই নিরাপদ ও গতিশীল যাতায়াত নিশ্চিত করা যায় না।
এদিকে এবারের ঈদযাত্রায় হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কটিতে ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চন্দ্রা ফ্লাইওভারের পশ্চিম প্রান্ত, কালিয়াকৈর, এলেঙ্গা, যমুনা সেতু টোল প্লাজা এবং হাটিকুমরুল আন্ডারপাস। অতিরিক্ত যানবাহন, পশুবাহী ট্রাক ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার কারণে এসব এলাকায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সেতু বিভাগ দাবি করছে, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশে সার্ভিস সড়ক ও মূল সড়ক মিলিয়ে কার্যত চার লেন সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর থেকে ইব্রাহিমাবাদ রেল স্টেশন পর্যন্ত ৭০০ মিটার নতুন সড়ক প্রস্তুত করা হয়েছে, যা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে রেলপথেও ঈদযাত্রায় চাপ বেড়েছে। উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলো ২ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে চলাচল করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক যাত্রী ট্রেনের ছাদে ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করছেন।
নৌপথেও যাত্রীর চাপ বাড়ছে। সদরঘাট এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বেড়েছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবারের ঈদে নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষ যাতায়াত করতে পারেন। এ জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ।