![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনকে দলীয়ভাবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণে আওয়ামী লীগের অনুসৃত পথেই হাঁটছে এবং এর মাধ্যমে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
সোমবার বিকেলে ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-এর ওপর হামলা, এনসিপি ও ছাত্রদলের পাল্টাপাল্টি মামলা এবং গ্রেপ্তারের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, জেলা আদালতগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখন আর স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। তার ভাষায়, “কে জামিন পাবে, কোন মামলার কী রায় হবে—সব কিছুই ঢাকার রিমোট কন্ট্রোল থেকে পরিচালিত হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, সরকারের একটি অংশ বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল পুলিশ হবে জনবান্ধব ও নিরপেক্ষ বাহিনী। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের অনেক কর্মকর্তা দলীয় অবস্থান নিয়ে কাজ করছেন, যা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ।
ঝিনাইদহকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আইনমন্ত্রীর নিজ জেলার পরিস্থিতিই প্রমাণ করছে যে স্থানীয় প্রশাসন ও আদালত কতটা রাজনৈতিক প্রভাবের অধীনে চলে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপি, এনসিপি ও অন্যান্য বিরোধী শক্তির মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও প্রশাসনকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আব্দুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করেছিল, সেই একই ভুল বিএনপি করলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, “জেল-জুলুম দিয়ে মানুষকে দমিয়ে রাখা যায় না। ইতিহাস তার প্রমাণ দিয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলন শেষে এনসিপির নেতাকর্মীরা ঝিনাইদহ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং রাজনৈতিক স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।