• হোম > বাংলাদেশ > অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে, জাপানের বড় বিনিয়োগ অব্যাহত

অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক বাস্তবায়নে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে, জাপানের বড় বিনিয়োগ অব্যাহত

  • সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ২২:২৭
  • ৬৯

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশকে অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের (FOIP) একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে জাপান। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থান এবং দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশের প্রতি টোকিওর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনইচি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে জাপান তার দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রাখবে।

জাপান দূতাবাসের এক বার্তায় রাষ্ট্রদূত বলেন, অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক ধারণা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এখন জাপানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, সামুদ্রিক যোগাযোগ, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। আর সেই কারণেই জাপান বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে। বিশেষ করে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল এবং ঢাকা মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোকে ঘিরে জাপানের বড় বিনিয়োগ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি এনে দিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, জাপানের ‘আপডেটেড এফওআইপি’ কৌশলের আওতায় বাংলাদেশকে আঞ্চলিক সংযোগ ও স্থিতিশীলতার কেন্দ্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাপান চায় বাংলাদেশকে ঘিরে একটি টেকসই বাণিজ্য ও অবকাঠামো নেটওয়ার্ক গড়ে উঠুক, যা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এদিকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এই চুক্তির মাধ্যমে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও জাপানের ধারাবাহিক বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি আস্থার বড় প্রমাণ। বিশেষ করে অবকাঠামো, জ্বালানি, যোগাযোগ ও সমুদ্র অর্থনীতিতে জাপানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।

বাংলাদেশে জাপানি ভাষা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ও দ্রুত বাড়ছে। তরুণদের মধ্যে জাপানে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দেশের জনগণের সম্পর্কও আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি মানবিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগই ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10586 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 06:25:20 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh