![]()
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্বাক্ষরিত বিদ্যমান ঋণচুক্তি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর পরিবর্তে সংশোধিত শর্তে নতুন করে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্যাকেজ নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা।
গত ২১ মে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী-র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আইএমএফের ডেপুটি ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক-এর নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নীতিগত পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, আগের ঋণচুক্তিটি ভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সংস্কার কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় না; বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি নতুন সংস্কার কাঠামো চায়। এ লক্ষ্যে তিন বছর মেয়াদি নতুন ঋণ কর্মসূচির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আইএমএফের পক্ষ থেকেও নতুন সংস্কার উদ্যোগ ও বিকল্প ঋণ কাঠামোর বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে। উভয় পক্ষ বাস্তবভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য ঋণ প্যাকেজ তৈরির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মূল্য সংযোজন কর বৃদ্ধি, কর ছাড় বাতিল, বিদ্যুৎ ও সারে ভর্তুকি কাঠামো পরিবর্তনসহ কিছু কঠোর শর্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মতপার্থক্য চলছিল। সরকার মনে করছে, এসব শর্ত জনগণের স্বার্থ ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইএমএফ কর্মসূচি অব্যাহত থাকা আন্তর্জাতিক আর্থিক আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা পাওয়ার পথ সহজ হয়।
নতুন ঋণ কাঠামোর পরিমাণ, সময়সীমা ও শর্ত চূড়ান্ত করতে আগামী জুলাই বা আগস্টে আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসতে পারে বলে জানা গেছে।