![]()
পবিত্র Eid al-Adha সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে গরুর সরবরাহ বাড়লেও এখনো প্রত্যাশিত ক্রেতাসমাগম দেখা যাচ্ছে না। তীব্র গরমে পশু ও খামারিদের দুর্ভোগ বেড়েছে, আর বিক্রি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
রাজধানীর তেজগাঁও, কমলাপুর, পোস্তগোলা ও ভাটারা-সহ বিভিন্ন পশুর হাটে দেশের নানা জেলা থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু আসছে। দিন বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে পশুর সংখ্যাও। তবে বিক্রেতাদের অভিযোগ, প্রচণ্ড গরমের কারণে মানুষ কম আসছেন, আর অনেকেই শুধু দরদাম করেই ফিরে যাচ্ছেন।
খোলা মাঠে বাঁধা পশুগুলোকে গরম থেকে রক্ষা করতে পানি ছিটানো, তালপাখা দিয়ে বাতাস করা এবং ছোট চার্জার ফ্যান ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অস্থায়ী চাপকলগুলোতেও পানি নিতে ভিড় করছেন রাখালেরা। দুপুরের রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পশুগুলোর অস্থিরতাও বাড়তে দেখা যায়।
মিজানুর রহমান নামের এক খামারি জানান, অতিরিক্ত গরমে গরুগুলো দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ফিড বেশি খাওয়ানো পশু গরমে হাঁপিয়ে যাচ্ছে, এমনকি হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে আবু বকর বলেন, গরমের কারণে গরুগুলো ঠিকমতো দাঁড়িয়ে থাকতেও পারছে না এবং বারবার পানি দিতে হচ্ছে।
বর্তমানে হাটে দুই থেকে আড়াই মণ মাংস হবে এমন গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আড়াই থেকে চার মণ ওজনের গরুর দাম দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। বড় আকারের গরুর দাম তিন লাখ টাকারও বেশি।
আকরাম হোসেন নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করেন, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম অনেক বেশি। তার ভাষায়, গতবার দেড় লাখ টাকায় যে গরু পাওয়া গিয়েছিল, এবার একই ধরনের গরুর জন্য প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।
খামারিদের দাবি, ভুসি, খৈল ও খড়সহ গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পশুর উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। তবে ঈদের শেষ দুই দিনে বিক্রি বাড়বে বলে আশাবাদী তারা।
এদিকে তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠ-এর পশুর হাটে একটি উট দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। “মরুভূমির জাহাজ”খ্যাত প্রাণীটিকে ঘিরে ছবি তুলতে ভিড় করছেন অনেকে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়-এর তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ১ লাখের কিছু বেশি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ পশু।