• হোম > বাংলাদেশ > অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে বড় উদ্যোগ, বিদেশি বিনিয়োগে নতুন সুযোগ দিচ্ছে সরকার

অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে বড় উদ্যোগ, বিদেশি বিনিয়োগে নতুন সুযোগ দিচ্ছে সরকার

  • রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ২৩:১২
  • ৭৩

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

দেশীয় জ্বালানি সম্পদ মাটির নিচে ফেলে রেখে দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকার দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি করবে এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

রোববার রাজধানীতে আয়োজিত বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, দেশের প্রথম সফল অফশোর বিডিং রাউন্ড অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯৩ সালে। সে সময় আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে একাধিক পিএসসি চুক্তির মাধ্যমে দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র এবং সমুদ্রের প্রথম বাণিজ্যিক গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। এসব গ্যাসক্ষেত্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও শিল্পখাতে বড় অবদান রেখেছে।

তিনি বলেন, সরকার দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-এর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণেও গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিনির্ভর একটি প্রক্রিয়া। তাই বিদেশি অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুত জ্বালানি অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে রাখা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ১০০ দিনের মধ্যে অফশোর বিডিং রাউন্ড আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় সংশোধিত অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন পিএসসিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিনিয়োগবান্ধব নানা সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির সুযোগ, নির্দিষ্ট শর্তে গ্যাস রফতানির সুবিধা, পাইপলাইন বিনিয়োগে ট্যারিফ সুবিধা এবং বিনিয়োগ সুরক্ষায় বিশেষ বিধান।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, জ্বালানি খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৬-এর আওতায় মোট ২৬টি ব্লক উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র ব্লক। বিনিয়োগকারীদের জন্য ডাটা প্যাকেজ ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছ চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে পারলে বাংলাদেশ আগামী কয়েক বছরে জ্বালানি খাতে বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে এবং আমদানিনির্ভরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10533 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 01:55:03 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh