![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
দেশের অন্যতম বৃহৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ PLC-এ আবারও বড় ধরনের প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রোববার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা পণ্ড হয়ে যায়। একই দিনে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খাঁন এবং চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুপুরে এমডি মো. ওমর ফারুক খাঁন চেয়ারম্যান বরাবর নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে বিকেলে চেয়ারম্যান ড. জোবায়দুর রহমানও পদত্যাগ করেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়।
ওমর ফারুক খাঁন গণমাধ্যমকে জানান, চেয়ারম্যানের অব্যাহত চাপের কারণেই তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তার ভাষায়, “আমার পদত্যাগপত্র পর্ষদ সভায় উপস্থাপনের কথা ছিল। কিন্তু সভা না হওয়া এবং চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় বিষয়টি এখনো অনুমোদিত হয়নি।”
এদিকে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। সকালে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অনিয়ম এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে এবং এর ফলে সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কর্মসূচি থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— এমডিকে অপসারণ করা হলে চেয়ারম্যানকেও অপসারণ করতে হবে, রাজনৈতিক ও বেআইনি নিয়োগ বন্ধ করতে হবে, বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপ-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং গ্রাহকদের আমানতের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্যাংকিং বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী ব্যাংকের মতো বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের নেতৃত্ব সংকট দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষ করে গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে দ্রুত প্রশাসনিক সমাধান ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ দূর করতে হলে শক্তিশালী করপোরেট গভর্ন্যান্স, স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।