![]()
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বৃহত্তর সমঝোতা চুক্তির অধিকাংশ বিষয় ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তার দাবি অনুযায়ী, চুক্তির অংশ হিসেবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হবে এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, চুক্তির মূল বিষয়গুলো প্রায় সম্পন্ন এবং এটি এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ কয়েকটি দেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে এই দাবির বিপরীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত ফারস নিউজ এজেন্সির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে এবং অবাধ আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল পুরোপুরি ফেরানোর বিষয়টি চুক্তিতে নেই। তাদের দাবি, আলোচনার সর্বশেষ প্রস্তাবে কেবল যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থার কাছাকাছি সীমিত নৌচলাচলের কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে সিএনএন ও অ্যাক্সিওসকে দেওয়া একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে শত্রুতা কমানো, মার্কিন অবরোধ আংশিক প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যুসহ বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে ৩০ দিনের নতুন আলোচনা শুরু করার কথাও উল্লেখ আছে।
আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরব, কাতার, মিশর, তুরস্ক ও পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ মধ্যস্থতায় যুক্ত হয়ে দুই পক্ষকে কাছাকাছি আনতে ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনা নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে চুক্তি নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিভক্তি রয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির কিছু কট্টরপন্থি নেতা এই সমঝোতার বিরোধিতা করেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে ইরানে সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো চূড়ান্ত নয়, তবে আলোচনাকারী সূত্রগুলো বলছে, চুক্তি খুব কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে এবং রোববারের মধ্যেই একটি কাঠামোগত ঘোষণা আসতে পারে।