![]()
দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
আজ শনিবার দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর এলাকায় ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে যারা দেশে এই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, দেশে এই মুহূর্তে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের মানুষ বিপদে পড়বে।”
পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় সরকার শুরু থেকেই আইনের শাসনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছে। তিনি বলেন, “কোন ব্যক্তি অপরাধ করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে। তবে সব কিছু নিয়ম-কানুন মেনেই করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু গোষ্ঠী ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, “রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যানবাহন চলাচল ব্যাহত করা হচ্ছে, কোথাও আগুন লাগানো হচ্ছে, কোথাও উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। যারা এই কাজগুলো করছে তারা আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।”
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও এ ধরনের কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল এবং তখন তিনি নিজে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পাশাপাশি দলের আইনজীবী ও চিকিৎসকেরা সহায়তা দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তুলে বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার কারণেই কি কোনো মহলের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, আর সেই কারণেই কি এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে?”
তিনি আরও দাবি করেন, গত ৫ আগস্ট যাদের জনগণ দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল, বর্তমান অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টাকারীদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন ও ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। “আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে হবে, তাহলেই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব,” বলেন তিনি।
তিনি জনগণকে বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এদেশের মালিক জনগণ। কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে—এটি আর হতে দেওয়া যাবে না।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় নেতারা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাহবুবুর রহমান লিটন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী পুনঃখনন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন করেন এবং প্রতীকীভাবে কোদাল চালিয়ে খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।