• হোম > স্বাস্থ্য > খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণে বড় সাফল্যের পথে বাংলাদেশ, জেনেভায় আশাবাদ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের

খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণে বড় সাফল্যের পথে বাংলাদেশ, জেনেভায় আশাবাদ ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারের

  • শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১৮:৫৯
  • ৭২

---

ই-বাংলাদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশ খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমে আরও বড় সাফল্য অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। তিনি বলেছেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অপুষ্টি মোকাবিলায় টেকসই অগ্রগতি সম্ভব হবে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরের Palais des Nations-এ আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আয়োজিত এ বৈশ্বিক আলোচনার আয়োজন করে Global Alliance for Improved Nutrition এবং Helen Keller International।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বৃহৎ পরিসরের খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়। ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, গত এক দশকে বাংলাদেশ লবণ, ভোজ্যতেল, গমের আটা এবং চাল পুষ্টি সমৃদ্ধকরণের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব উদ্যোগের ফলে জনগণের মধ্যে আয়রন, আয়োডিন, ভিটামিন-এ এবং জিংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ঘাটতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বৃহৎ পরিসরের খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ অপুষ্টি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর, ব্যয়-সাশ্রয়ী ও টেকসই উপায়গুলোর একটি। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তবে এ খাতে এখনো কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, নীতিগত সমন্বয়ের ঘাটতি, মান নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, বাজারভিত্তিক প্রতিবন্ধকতা এবং উৎপাদকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। একইসঙ্গে ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো এবং টেকসই বাজার কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বাংলাদেশ সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। নীতি সহায়তা জোরদার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বিশেষভাবে প্রধানমন্ত্রীর “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, যদি এ কর্মসূচির আওতায় পুষ্টি সমৃদ্ধ চাল, আটা ও ভোজ্যতেল অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। এর মাধ্যমে নারী, শিশু ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের সুযোগ পাবে।

স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে অপুষ্টি কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে খাদ্য পুষ্টি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10445 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 02:23:43 AM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh