![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF)-এর “Healthy Longevity Workstream”-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি প্রতিমন্ত্রীর সমমর্যাদার সুবিধা ভোগ করছেন।
তার বক্তব্যে তিনি প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে সমাজের বোঝা হিসেবে নয়, বরং অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং মানবিক অবদানের এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য বলতে কেবল মানুষের আয়ু বৃদ্ধি বোঝায় না, বরং সুস্থ, উৎপাদনশীল, মর্যাদাপূর্ণ এবং অর্থবহ জীবন নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্বের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০০ কোটির বেশি হতে পারে। তাই এখন থেকেই স্বাস্থ্যনীতি, সামাজিক সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তিনি বাংলাদেশের বাস্তবতাও তুলে ধরেন। ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যেমন একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি এই জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে জাতীয় উন্নয়নের সম্পদে পরিণত করার সুযোগও রয়েছে বলে তিনি মত দেন।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে স্বাস্থ্যকর বার্ধক্য এখন কেবল স্বাস্থ্যখাতের বিষয় নয়; এটি অর্থনীতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং জনসংখ্যা পরিকল্পনার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত।