• হোম > স্বাস্থ্য > স্বাস্থ্য সচেতন হলেই বাঁচবে আগামী বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য সচেতন হলেই বাঁচবে আগামী বাংলাদেশ

  • বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ১০:২৩
  • ৬৬

---

স্বাস্থ্য সচেতনতা, অসংক্রামক রোগের বিস্তার এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন Sakif Shamim। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ এখন এমন এক স্বাস্থ্য বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে যেখানে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ফ্যাটি লিভার, থাইরয়েড জটিলতা এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার দ্রুত বাড়ছে—এবং তরুণরাও ঝুঁকির বাইরে নয়।

তার মতে, অসুস্থতা হঠাৎ তৈরি হয় না; বরং দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ এবং স্বাস্থ্য বিষয়ে উদাসীনতার ফল হিসেবে ধীরে ধীরে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

COVID-19 pandemic-পরবর্তী বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারাকেই ভবিষ্যতের বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শুধু সংক্রমণ নয়, দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সংক্রামক রোগের পাশাপাশি এখন দ্রুত বাড়ছে Non-Communicable Disease (NCD)। World Health Organization-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হৃদরোগ, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও শ্বাসতন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি রোগ বর্তমানে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে।

খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনকে তিনি অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, ঘরোয়া পুষ্টিকর খাবারের জায়গা দখল করেছে ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি ও কোমল পানীয়। এতে শরীরে নীরব প্রদাহ তৈরি হয়, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে।

ক্যান্সার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন প্রায় প্রতিটি পরিবারেই কোনো না কোনোভাবে ক্যান্সারের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আগের তুলনায় কম বয়সীদের মধ্যেও স্তন ক্যান্সার, সার্ভিক্যাল ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও ফুসফুস ক্যান্সারের মতো রোগ বাড়ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো— অধিকাংশ রোগী দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যান, যখন রোগ অনেক জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

তিনি মনে করেন, শুধু হাসপাতাল ও চিকিৎসা অবকাঠামো বাড়ালেই হবে না; প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দেওয়া। উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও Preventive Healthcare বা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার দিকে জোর দেওয়া উচিত।

এ জন্য তিনি কয়েকটি করণীয় তুলে ধরেছেন—

  • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা
  • নিয়মিত শরীরচর্চা ও হাঁটা
  • বছরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যান্সার স্ক্রিনিং
  • জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা

তার মতে, “আজকের অসচেতনতা আগামী দিনের হাসপাতালের শয্যা তৈরি করে, আর আজকের সচেতনতা তৈরি করতে পারে একটি সুস্থ, শক্তিশালী ও নিরাপদ বাংলাদেশ।”


This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10381 ,   Print Date & Time: Saturday, 22 August 2026, 09:41:55 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh