![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “সৃষ্টিকর্তা যেহেতু আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, আমি দ্রুতই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরব। মাথা উঁচু করে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার গর্ব নিয়েই ফিরব।”
বাংলাদেশে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হলেও নয়াদিল্লি এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনে বহুবার হত্যাচেষ্টা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু কেউ আমাদের থামাতে পারেনি।”
আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পরও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগ মানুষের আবেগে রয়েছে। আমাদের কোটি কোটি সমর্থক এবং লাখো নেতা-কর্মী এখনো দেশে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে আওয়ামী লীগের ফিরে আসা অনিবার্য।”
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তার অভিযোগ, শত শত নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন এবং দেড় লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত নেতারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কাছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের সমালোচনার জবাবও দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে “ভারততোষণ” বা “দেশবিরোধী চুক্তি” করার অভিযোগ আনা হলেও এখন পর্যন্ত কেউ এর প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
সাক্ষাৎকারে তিনি ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি, ২০১৪ সালের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি এবং ২০১৫ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তির উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এসব চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থই সুরক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে তার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনের ইঙ্গিত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।