![]()
ই-বাংলাদেশ ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট, বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের অস্থিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনের অগ্রগতি বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অন্তত ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ হারাতে পারেন।
সোমবার রাজধানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) সম্মেলন কক্ষে বিশ্বব্যাংক ও পিআরআইয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদ: বিশেষ মনোযোগ—কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ব্যবসায়িক পরিবেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. ধ্রুব শর্মা। সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত না হতো, তাহলে ২০২৬ সালে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠতে পারত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সংখ্যা কমে মাত্র ৫ লাখে নেমে আসতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা অনুযায়ী দেশের দারিদ্র্যের হার ৮ শতাংশের পরিবর্তে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও পর্যাপ্ত মানসম্মত কর্মসংস্থানের অভাবে গত এক বছরে প্রায় ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। বিশেষ করে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের হেডলাইন মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে নিম্নআয়ের মানুষের প্রকৃত মজুরি কমে গেছে এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি সামাজিক বৈষম্য ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামষ্টিক অর্থনীতির ধীরগতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ২০২৬ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়ে এনেছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংক মনে করছে, বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশ চাইলে নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে। বিশেষ করে স্মার্ট ডিরেগুলেশন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সমান ব্যবসায়িক সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হতে পারে।
পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি। তিনি জানান, যুব বেকারত্ব প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক। তার মতে, প্রবৃদ্ধি ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয় এবং কর্মসংস্থান ছাড়া টেকসই দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য অর্জনও কঠিন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাংলাদেশকে স্বল্পমূল্যের শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে বহুমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক কাঠামোর দিকে এগোতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা বেসরকারি বিনিয়োগে বড় বাধা তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।