![]()
বিমানবন্দর–গাজীপুর করিডোরে নির্মিত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (BRT) প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকারের গঠিত বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ কমিটি। সুপারিশ অনুযায়ী, পুরো করিডোরটিকে শুধু বিআরটি লেন হিসেবে না রেখে সব ধরনের যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত সাধারণ সড়ক হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি পর্যালোচনার জন্য গত বছরের আগস্টে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় দুটি আলাদা কমিটি গঠন করে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়।
মূল সুপারিশ কী?
রিভিউ কমিটির মতে, বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার করিডোরের অনেক অংশই আসলে বিআরটি ব্যবস্থার জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল এলাকায় সার্ভিস রোড ও ফুটপাতের ঘাটতি এবং মাঝখানে মাত্র দুই লেন থাকায় পূর্ণাঙ্গ বিআরটি চালু হলে ভয়াবহ যানজট তৈরি হতে পারে।
এই কারণে—
- বিআরটি লেন আলাদা করে চালানোর বদলে পুরো সড়ক উন্মুক্ত করার সুপারিশ এসেছে
- ভবিষ্যতে টোল আদায়ের মাধ্যমে প্রকল্প ব্যয় পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে
- টঙ্গী ওভারপাস এলাকায় টোল প্লাজা বসানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা
প্রায় ৪,৫০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নেওয়া এই প্রকল্পটির প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দায়িত্বে ছিল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
এখন প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু না করে নতুন মডেলে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
দায় নির্ধারণ ও তদন্ত
কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নকশাগত ত্রুটির জন্য সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়ী করা যেতে পারে। তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার সুপারিশও এসেছে।
কারা যুক্ত ছিলেন
প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে ছিল—
- অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল ও ব্রিসবেন সিটি এন্টারপ্রাইজ
- ফ্রান্সের সিস্ট্রা এসএ
- বাংলাদেশের এসিই কনসালট্যান্স লিমিটেড
ব্যবসায়িক মডেল তৈরিতে যুক্ত ছিল ভারতের সিইপিটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুয়েটের গবেষণা বিভাগ। পরবর্তীতে তারা প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়।
রিভিউ কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক ড. সামছুল হক। তিনি জানিয়েছেন, অপারেশনাল পর্যায়ে গুরুতর সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা আগেই প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন।
সরকারের অবস্থান
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এটি মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করা হবে।
সব মিলিয়ে, বহু আলোচিত এই BRT প্রকল্প এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে—এটি পূর্ণাঙ্গ BRT হিসেবে চালু হবে, নাকি সাধারণ টোলভিত্তিক সড়কে রূপ নেবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন সরকারের চূড়ান্ত পর্যায়ের অপেক্ষায়।