![]()
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের অধিকাংশ মানুষের নাম ‘মোহাম্মদ’। গত শুক্রবার (১৫ মে) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। চীন সফরকালে রেকর্ড করা ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মূলত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন স্পেস ফোর্সের নজরদারি সক্ষমতা নিয়ে কথা বলছিলেন। বিষয়টি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ট্রাম্প বলেন, তার প্রতিষ্ঠিত স্পেস ফোর্সের মাধ্যমে ইরানের নির্দিষ্ট এলাকায় মহাকাশ থেকে একাধিক ক্যামেরায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ওই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছোটখাটো গতিবিধিও শনাক্ত করা সম্ভব। তিনি এ সময় মন্তব্য করেন, যদি কারও নাম ‘মোহাম্মদ’ হয়, তবে সেটি সাধারণ একটি নাম হিসেবে ধরা যায় এবং ইরানে এমন নামের মানুষের সংখ্যা বেশি বলেও তিনি দাবি করেন।
বিশ্বজুড়ে ‘মোহাম্মদ’ নামটি অত্যন্ত প্রচলিত—এটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানেও দেখা যায়। তবে একটি দেশের জনগোষ্ঠী নিয়ে ট্রাম্পের এই সাধারণীকরণ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তেহরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং সম্ভাব্য কোনো চুক্তিতেও এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের হাতে কার্যত ‘পারমাণবিক ধুলা’ ছাড়া কিছুই নেই। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে এই শব্দগুচ্ছকে ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম মজুদের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এর আগে আরেকটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শারীরিক গঠন ও উপস্থিতির প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, হলিউডে যদি চীনা নেতার চরিত্রে কাউকে কাস্ট করতে হয়, তবে শি জিনপিং হতেন আদর্শ পছন্দ।
ট্রাম্প দাবি করেন, শি জিনপিং ইরান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর মতে, চীন ইরানের অন্যতম প্রধান তেল ক্রেতা হওয়ায় হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খোলা রাখার বিষয়ে বেইজিংয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।