• হোম > অর্থনীতি > ডিসেম্বর প্রান্তিকে ২০ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা

ডিসেম্বর প্রান্তিকে ২০ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা

  • রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১২:০৭
  • ৪৬

---

দেশের ব্যাংক খাতে মূলধন ঘাটতি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানো বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি বড় সতর্ক সংকেত। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট শুধু কয়েকটি দুর্বল ব্যাংকের সমস্যা নয়; বরং দীর্ঘদিনের দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং পুনঃতফসিলনির্ভর নীতির সামগ্রিক ফল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মূলধন ঘাটতি ছিল ২ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা। ডিসেম্বর প্রান্তিকে তা সামান্য কমে এলেও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি প্রকৃত উন্নতি নয়; বরং পুনঃতফসিলের কারণে সাময়িক স্বস্তি।

ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বলতে বোঝায়—ব্যাংকের নিজস্ব মূলধন আন্তর্জাতিক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ন্যূনতম সীমার নিচে নেমে যাওয়া। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫ শতাংশ মূলধন সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক হলেও দেশের ব্যাংক খাতের সিআরএআর নেমে এসেছে ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে।

বর্তমানে ২০টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাপ রয়েছে ইসলামী ধারার কয়েকটি ব্যাংকে। সাতটি ইসলামী ব্যাংকের সম্মিলিত মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে:

  • First Security Islami Bank
  • Social Islami Bank
  • Union Bank
  • EXIM Bank

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অবস্থাও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে:

  • Janata Bank
  • Agrani Bank
  • Rupali Bank
  • Basic Bank

অর্থনীতিবিদদের মতে, বছরের পর বছর রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদন, দুর্বল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মিত তদারকি এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ Dr. Zahid Hossain বলেছেন, পুনঃতফসিলের মাধ্যমে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি ভালো দেখানো গেলেও এটি “কৃত্রিম উন্নতি”। তাঁর মতে, বারবার পুনঃতফসিল ব্যাংকের ব্যালান্স শিটকে দুর্বল করে এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের উৎসাহিত করে।

বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতির কয়েকটি বড় ঝুঁকি হলো:

  • ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাওয়া
  • বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়া
  • আন্তর্জাতিক অর্থায়নে আস্থা সংকট তৈরি হওয়া
  • সরকারের ওপর ভবিষ্যতে পুনঃমূলধনীকরণের চাপ বাড়া
  • করদাতার অর্থ দিয়ে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখার ঝুঁকি বৃদ্ধি

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, শুধু পুনঃতফসিল নয়, বরং:

  • খেলাপি ঋণের কার্যকর আদায়,
  • দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন,
  • রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ঋণ অনুমোদন,
  • এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি ছাড়া এই সংকট থেকে স্থায়ীভাবে বের হওয়া কঠিন হবে।

This page has been printed from Entrepreneur Bangladesh - https://www.entrepreneurbd.com/10219 ,   Print Date & Time: Wednesday, 26 August 2026, 01:58:59 PM
Developed by: Dotsilicon [www.dotsilicon.com]
© 2026 Entrepreneur Bangladesh