![]()
ঢাকা-র কাঁচাবাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বিশেষ করে সবজির মূল্য হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও হাতিরপুল-সহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বর্তমানে বাজারে ১০০ টাকার নিচে সবজি খুব কমই পাওয়া যাচ্ছে। লম্বা বেগুন, শসা, করোলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও পেঁপের কেজি ১০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে। গোল বেগুন ও কাঁকরোলের দাম ১২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। তুলনামূলকভাবে কম দামে রয়েছে শুধু ঢেঁড়স, যার কেজি ৬০ টাকা।
বাজার করতে আসা চাকরিজীবী জহিরুল ইসলাম বলেন, এখন আগের মতো এক কেজি করে সবজি কেনা সম্ভব হচ্ছে না; অনেকেই আধা কেজি বা তারও কম কিনছেন।
সবজি বিক্রেতা তারেক হোসেন জানান, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও মৌসুম শেষের দিকে হওয়ায় অনেক সবজির সরবরাহ কমে গেছে, যার প্রভাব দামে পড়ছে।
মাছের বাজারেও একই অবস্থা। ২০০ টাকার নিচে প্রায় কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং কই ও শিং মাছ ৪০০ টাকার ওপরে। নদীর মাছের দাম আরও বেশি; দেশি টেংরা ৬০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
গৃহিণী রওশন আক্তার বলেন, আগে যে মাছ ৩০০ টাকায় কেনা যেত, এখন সেটির দাম ৪৫০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ইলিশের দামও বেশ চড়া। বিক্রেতা সোহাগ জানান, এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ৩ হাজার টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি ও ডিমের দামও বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা কেজি, সোনালি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজনও এক সপ্তাহে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বিক্রেতা আনিস মিয়া বলেন, ঈদের পর দাম কিছুটা কমলেও এখন আবার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মুরগির বাজার ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে সপ্তাহের শেষদিকে বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বাড়ে।
এদিকে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়ে এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় উঠেছে। আদার দামও বেড়ে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা বিদ্যুৎ জানান, পাইকারি বাজারে প্রতিদিনই দাম বাড়ছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে।