![]()
দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়ার জটিলতা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৫ থেকে ৮ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং এসব ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অপুষ্টি, কম ওজন নিয়ে জন্ম, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ডায়রিয়া, বমি ও মারাত্মক পানিশূন্যতার কারণে অনেক শিশুর অবস্থা দ্রুত সংকটাপন্ন হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে চিকিৎসাও কঠিন হয়ে উঠছে।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৪৫১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের হাম পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছিল এবং ৩৭৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন এবং চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর বিশেষজ্ঞরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও অধিকাংশ শিশু সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে যায়। তবে যেসব শিশুর নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতা তৈরি হয়, তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।
বক্ষব্যাধী বিশেষজ্ঞ ডা. জিয়াউল হক বলেন, হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম কারণ শ্বাসতন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়া। নিউমোনিয়া শুধু ফুসফুস নয়, অনেক সময় মস্তিষ্কসহ অন্যান্য অঙ্গেও প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে অধ্যাপক রুহুল আমিন বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২৪ হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়। হামের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, অপুষ্টি ও পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধের অভাব শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিচ্ছে, ফলে সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী নয় মাস বয়সে হামের টিকা দিলে প্রায় ৯০ শতাংশ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে পরিবর্তনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১১ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং আরও ১ হাজার ১৯২ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। গত ৬০ দিনে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১ জনে। এর মধ্যে ৪০ হাজার ১৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৩৬ হাজার ৫৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।